রংপুরের তারাগঞ্জে তিন দফা দাবি ও ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেছেন। আজ ৩রা ডিসেম্বর (বুধবার) সকাল থেকে উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
সকালে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা যায়—শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ, কক্ষে তালা ঝুলানো, আর ফাঁকা স্কুল প্রাঙ্গণ। আকস্মিক এ কর্মসূচির ফলে দুপুরের পর থেকেই অধিকাংশ বিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
আজ সকাল ১০টায় সামাজিক বিজ্ঞান এবং দুপুরে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে শিক্ষকরা কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই হঠাৎ শাটডাউন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।
শিক্ষকদের তিন দফা দাবি,
১০ম গ্রেড প্রদান (১১তম গ্রেডের সরকারি প্রস্তাব নয়, তারা ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন চান)
২️⃣ ১৬ বছর চাকরি পূর্ণ হলে উচ্চতর গ্রেড
৩️⃣ শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করা
তারাগঞ্জ দাবি বাস্তবায়ন ও ঐক্য পরিষদের সভাপতি শ্রী প্রশান্ত কুমার রায় বলেন,
“আমাদের তিনটি দাবি সমান গুরুত্বপূর্ণ। সরকার যে ১১তম গ্রেড দেওয়ার কথা বলেছেন, সেটির বাস্তবায়ন আমাদের প্রাণের দাবি। আমরা চাই দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হোক। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বাধ্য হবো।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম বলেন,
“আমরা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মসূচি পালন করছি। কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমরা সেই সিদ্ধান্তেই অটল থাকবো।”
অন্য শিক্ষক নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দাবি মানার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই তারা শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এসময় অন্যান্য শিক্ষক নেতাদের পাশাপাশি বহু সহকারী শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, আকস্মিকভাবে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শফিউল মন্ডল 










