Dhaka 3:05 am, Sunday, 14 June 2026

মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে নিজ বাড়িতে নৃশংস হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য

 

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর এলাকায় এক মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায় (৬০)। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির পর সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীরা মই বেয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে প্রধান ফটকের চাবি পেয়ে দরজা খুলে ডাইনিং রুমে যোগেশ চন্দ্র রায়ের এবং রান্নাঘরে তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়ের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী দীপক চন্দ্র রায় বলেন, তাঁর পরিবার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে ওই বাড়ি দেখাশোনা করে আসছেন। প্রতিদিনের মতো কাজে আসলেও সেদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত ঘর থেকে কেউ বের না হওয়ায় সন্দেহ জাগে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মই বেয়ে ঘরে ঢুকে তারা লাশ দেখতে পান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত যোগেশ চন্দ্র রায় পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি ২০১৭ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসর নেন। তাঁদের দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় জয়পুরহাটে এবং ছোট ছেলে রাজেশ খান্না চন্দ্র রায় ঢাকায় পুলিশে চাকরিরত। স্বামী-স্ত্রী একাই গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন, পুলিশ এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আলী হোসেন। আলী হোসেন বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

তারাগঞ্জ থানার এসআই মো:আবু ছাইয়ুম জানান, দুজনের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Tag :
Popular Post

মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে নিজ বাড়িতে নৃশংস হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য

Update Time : 12:13:43 pm, Sunday, 7 December 2025

 

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর এলাকায় এক মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায় (৬০)। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির পর সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীরা মই বেয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে প্রধান ফটকের চাবি পেয়ে দরজা খুলে ডাইনিং রুমে যোগেশ চন্দ্র রায়ের এবং রান্নাঘরে তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়ের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী দীপক চন্দ্র রায় বলেন, তাঁর পরিবার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে ওই বাড়ি দেখাশোনা করে আসছেন। প্রতিদিনের মতো কাজে আসলেও সেদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত ঘর থেকে কেউ বের না হওয়ায় সন্দেহ জাগে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মই বেয়ে ঘরে ঢুকে তারা লাশ দেখতে পান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত যোগেশ চন্দ্র রায় পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি ২০১৭ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসর নেন। তাঁদের দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় জয়পুরহাটে এবং ছোট ছেলে রাজেশ খান্না চন্দ্র রায় ঢাকায় পুলিশে চাকরিরত। স্বামী-স্ত্রী একাই গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন, পুলিশ এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আলী হোসেন। আলী হোসেন বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

তারাগঞ্জ থানার এসআই মো:আবু ছাইয়ুম জানান, দুজনের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।