রংপুর সিটির মাহিগঞ্জ থানার ফতেপুর এলাকায় বিএনপি নেতা কাউসার জামান বাবলা ও তার শ্বশুর আওয়ামী লীগ নেতা জামাল মিয়া কর্তৃক অবৈধভাবে হিন্দু পরিবারের জমি দখলচেস্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে সীমু অধিকারী।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে সীমু অধিকারী লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমাদের স্থানীয় অভিভাবক বিএনপি নেতা কাওছার জামান বাবলা ও তার শ্বশুর আওয়ামী লীগ নেতা জামাল মিয়ার নিকট আজ আমরা চরম নিগৃহের শিকার।আমার শ্বশুর ডা. মধুসূদন অধিকারী ও জ্যাঠা শ্বশুর মহেন্দ্রনাথ অধিকারী যৌথভাবে ৩৬ শতাংশ জমি, বিগত ২৬ জুলাই ১৯৭২ ইং তারিখে ২৭৪৯৭ নং দলীলমুলে ক্রয় করেন। যথারীতি সেই জমিতে আমার শ্বশুর বসতবাড়ি করে ৫২ বছর যাবৎ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। আমার স্বামীসহ তার ভাইবোনদের জন্ম এ বাড়িতেই। অপরদিকে আমার জ্যাঠা শ্বশুর মহেন্দ্র নাথ অধিকারী চাকুরির সুবাদে রাজশাহীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। কিন্তু হঠাৎ করে গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ইং সকাল অনুমান ১০/১১টার দিকে কাওছার জামান বাবলা আমাদের বাড়ির সামনে এসে বলেন, এই জমি আমি কিনেছি বলে দ্রুত জমি খালি করে দিতে হবে অন্যথায় যা করার তিনি করবেন এবং ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখ শুক্রবার সকালে, কাওছার জামান বাবলাসহ তার শ্বশুর আওয়ামী লীগ নেতা জামাল মিয়ার উপস্থিতিতে সার্ভেয়ার দারা জমি মাপজোক করাকালীন সময়ে, ভারাটিয়া সন্ত্রাসীরা তান্ডব চালিয়ে আমাদের জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ক্ষতিসাধন করেন। আমরা পারিবারিকভাবে বাবলার নিকট ১ সপ্তাহ সময় চাইলে, তারা শ্বশুর জামাই মিলে প্রকাশ্যেই আমাদের হুমকি দিয়ে বলে, জমিতে থাকা ঘরবাড়ি দুই দিনের মধ্যে সরিয়ে নিতে হবে। তা নাহলে আজকে যেভাবে গাছপালা কাটা হয়েছে, পরশু সেভাবে তোদের কল্লাকাটা হবে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, বাবলার ভারাটিয়া সন্ত্রাসী ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বাবলা জানান, এই জমি ৫৩,৪৫,০০০/- টাকা দিয়ে কিনেছেন। সেইসাথে ১৮১৮০/২০২৩ নং দলিলের ফটোকপি দেন। রংপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খবর নিয়ে জানতে পারি, পরধনলোভী কাওছার জামান বাবলা ও তার শ্বশুর জামাল মিয়া নিজস্বার্থ চরিতার্থে ৩১ লাখ ২ হাজার টাকা বেশী দেখিয়ে ভুয়া দলিল তৈরী করেছে। আসল দলিলে জমিনের মুল্য ২২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। বাবলা ও জামাল মিয়ার এহেন নৈরাজ্যের হাত থেকে বাঁচতে আমার শ্বশুর ডা. মধুসূদন অধিকারী বাদী হয়ে গত ২৫/০৯/২০২৩ইং সিনিয়র সহকারী জজ আদালত রংপুর সদরে কাওছার জামান বাবলাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ১৯৪৯ সালের অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইনের ২৪ ধারার বিধানমতে অগ্রক্রয় (Pre-Emtion) এর নিমিত্তে মামলা করেন। যার মিস কেস নম্বর ৫৮/২০২৩, উক্ত মোকাদ্দামাটি বিজ্ঞ আদালতে দায়ের করার পর থেকেই বাবলা তার শ্বশুর জামাল মিয়াসহ তাদের ভারাটিয়া সন্ত্রাসীরা, বিভিন্নভাবে আমাদের পরিবারকে হুমকিধামকি দিয়ে আসছে। যার কারণে আমাদের স্বাভাবিক জীবন যাপনে বেশ প্রভাব পড়ছে।
এসময় তিনি বলেন, আমার শ্বশুরের দায়েরকৃত “অগ্রক্রয় (Pre-Emtion)” মামলাসুত্রে, বিগত ০৪/১০/২০২৩ইং তারিখে ১-৩ নং প্রতিপক্ষ আপত্তি দাখিল অন্তে দোতরফা সুত্রে শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালত, ১ থেকে ৩নং প্রতিপক্ষকে বে-আইনীভাবে নালিশী সম্পত্তিতে অনুপ্রবেশ করে, ঘর বাড়ি নির্মাণ কিংবা আকার আকৃতি পরিবর্তন না করার জন্য আদেশ প্রদান করেন। এবং বিগত ২৯/১০/২০২৩ইং তারিখে দোতরফা শুনানি অন্তে, বিজ্ঞ আদালত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নালিশী সম্পত্তির আকার, আকৃতি ও প্রকৃতির উভয়পক্ষকে স্থিতিবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। অত্র মোকদ্দমাটি বিজ্ঞ আদালতে বর্তমান চলমান আছে। এছাড়াও জুলাই বিপ্লব ও গণ অভ্যুত্থানের পর গত ১১/০৮/২০২৪ইং কাওছার জামান বাবলা অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের গাড়িতে বসিয়ে, সকাল অনুমান ১১টার দিকে মাহিগঞ্জ বাজারস্থ আমার শ্বশুরের ডাক্তারী চেম্বার মানিক হোমিও হলে গিয়ে বলে, মধু তোর ছেলে মানিক কোথায়? তাকে দ্রুত আমার সাথে দেখা করতে বলবি। ওকে আমার পা ধরে প্রকাশ্য ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় ভারতে পালানোর সময়ও পাবিনা! তোর ছেলে বেশী বাড়ছে, এবার সারাদেশে সিরিজ মামলা দিয়ে ওকে জেলে পঁচাবো। তুই জানিস তো আওয়ামী লীগ পালাইছে। এখন ক্ষমতায় আমরা। তুই পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে থাকতে চাইলে জমিনের মামলা তুলে নিবি, নাহলে এবার তোদের উচিৎ শিক্ষা দিয়েই ছাড়বো।বাবলা জামালের একেরপর এক সন্ত্রাসী আচরণে আমার শ্বশুর অসুস্থ হয়ে পরেন। পরে আমরা ১৩/০৮/২৪ইং সকাল অনুমান ১০টার দিকে কাওছার জামান বাবলার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আমাদেরকে তার বাসায় ডাকেন। স্থানীয় দুই-একজনকে সাথে নিয়ে ক্ষমা চাওয়ার উদ্দেশ্য বাবলার বাড়িতে গেলে, তিনি আমাদের সাথে দেখা না করে উল্টো তার শ্বশুর আওয়ামী লীগ নেতা জামাল মিয়া সহ ভারাটিয়া সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেন আমাদের বাড়িঘর দখলের জন্য। জামালের নেতৃত্বে বাবলার সন্ত্রাসী বাহিনী তান্ডব চালিয়ে, প্রথমে আমাদের বাড়ির সিসি ক্যামেরা ভাংচুর করে, টিনে ঘেড়া বাড়ির বাউন্ডারি ভেঙ্গে বাড়িতে প্রবেশ করে লুটপাট চালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা এরূপ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখে জরুরী সেবা-৯৯৯ এ কল দিলে রংপুর মেট্রোপলিটন মাহিগঞ্জ থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল টিম তৎক্ষনাৎ এসে উপস্থিত হলে, সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এমতাবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোন অবনতি যাতে নাহয় সেজন্য, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাগণ উপস্থিত জনসম্মুখে আমাদেরকে মামলা করার পরামর্শ প্রদান করেন। ওইদিন মাহিগঞ্জ থানাসহ অত্র এলাকার অসংখ্য বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা আমাদের বাড়ি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে আওয়ামী লীগ নেতা জামাল ও বিএনপি নেতা বাবলার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি আমাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। বিষয়টি রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপি জামাতসহ প্রশাসনের অনেকেই জানে। প্রশাসনের পরামর্শক্রমে ঐদিন বিকেলে, আমার স্বামী মানিক অধিকারী বাদী হয়ে, মাহিগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করলেও অজ্ঞাত কারণে মাহিগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি রওশন কবির আমাদের এজাহার খানা রেকর্ড করেনি।একই তফশিল বর্ণিত নালিশী সম্পত্তি নিয়ে, প্রতিপক্ষ কাওছার জামান বাবলা বাদি হয়ে, গত ১২/০৮/২০২৪ইং তারিখে আমার শ্বশুর স্বামীসহ পরিবারের ৪জনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রংপুর এ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারামতে মামলা করেন। মামলা নং এম আর ৮৮৮/২৪, মামলা দায়ের পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত মাহিগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা বরাবরে দখলস্বত্ত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক মাহিগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, হামিদুল ইসলাম, সরেজমিন পরিদর্শনকালে, উক্ত সম্পত্তিতে আমাদের, রান্নাঘর, গোয়ালঘর, বাথরুম, ল্যাটিন, বায়োগ্যাস প্লান্ট, সবজি ক্ষেত। সুপারি বাগান, কলাগাছ, পেপেগাছ, গরুর গোবরের ঢিপিসহ স্থায়ীভাবে বাড়ির আভ্যন্তরীণ অংশ হিসেবে দেখে বুঝেও অনৈতিক সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে, বিএনপি নেতা কাওছার জামান বাবলা গংদের দখল দেখিয়ে, গত ০৮/০৯/২০২৪ইং বিজ্ঞ আদালতকে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন দাখিল করেন।এবিষয়ে কাওসার জামান বাবলার সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি কোন ক্ষমতার অপব্যবহার করিনি, আমি কোন অন্যায় করিনি, আমার বিরুদ্ধে যে অপবাদগুলো দেয়া হয়েছে সেগুলো তারা প্রমাণ করুক।
মোশারফ হোসেন ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি 








