Dhaka 9:08 am, Saturday, 27 June 2026

রংপুরের তারাগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি হত্যা: গার্ড অব অনারে শেষ শ্রদ্ধা

 

রংপুরের তারাগঞ্জে দুর্বৃত্তের নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায় (৬০)-এর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর খিয়ারডাঙ্গা (চাকলা) গ্রামে যমুনেশ্বরী নদীর তীরে তাঁকে গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়ের দাহক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা ও মাথায় আঘাত করে তাদের হত্যা করে। পরদিন রবিবার সকালে পুলিশ বাড়ি থেকে রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। নিহত যোগেশ চন্দ্র রায় উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ও রহিমাপুর বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোনাববর হোসেন, তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রুহুল আমিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক ডাঃ আলী হোসেনসহ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ।

এ ঘটনায় নিহত দম্পতির বড় ছেলে সুফেন রায় (এএসআই, র‌্যাব–জয়পুরহাট) রবিবার রাতে তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এখনো পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তারাগঞ্জ থানার ওসি মোঃ রুহুল আমিন জানান, “বীরমুক্তিযোদ্ধা দম্পতি হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। অতি দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।”

রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে ইউএনও মোনাববর হোসেন ও নবাগত ওসি রুহুল আমিন নিহত দম্পতির স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মৃত্যুকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় দুই ছেলে, নাতি-নাতনি ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

Tag :
Popular Post

রংপুরের তারাগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি হত্যা: গার্ড অব অনারে শেষ শ্রদ্ধা

Update Time : 09:44:57 pm, Monday, 8 December 2025

 

রংপুরের তারাগঞ্জে দুর্বৃত্তের নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায় (৬০)-এর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর খিয়ারডাঙ্গা (চাকলা) গ্রামে যমুনেশ্বরী নদীর তীরে তাঁকে গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়ের দাহক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা ও মাথায় আঘাত করে তাদের হত্যা করে। পরদিন রবিবার সকালে পুলিশ বাড়ি থেকে রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। নিহত যোগেশ চন্দ্র রায় উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ও রহিমাপুর বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোনাববর হোসেন, তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রুহুল আমিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক ডাঃ আলী হোসেনসহ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ।

এ ঘটনায় নিহত দম্পতির বড় ছেলে সুফেন রায় (এএসআই, র‌্যাব–জয়পুরহাট) রবিবার রাতে তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এখনো পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তারাগঞ্জ থানার ওসি মোঃ রুহুল আমিন জানান, “বীরমুক্তিযোদ্ধা দম্পতি হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। অতি দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।”

রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে ইউএনও মোনাববর হোসেন ও নবাগত ওসি রুহুল আমিন নিহত দম্পতির স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মৃত্যুকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় দুই ছেলে, নাতি-নাতনি ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।