রংপুর নগরীতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করতে দেয়া জমি ছেড়ে না দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী একটি পরিবার। গতকাল রোববার বিকেলে নগরীর ৬নং ওয়ার্ডের বুড়িরহাট বাজার¯’ নিজ জমি পাশে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মরহুম আব্দুল মজিদ (জমিদার মেম্বার) এর বড় ছেলে মোঃ গোলাম আজম।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রংপুর মহানগরীর ৬নং ওয়ার্ডের বুড়িরহাট বাজারের স্কুল মোড়ের পার্শ্বে আমাদের পিতা মরহুম আব্দুল মজিদ (জমিদার মেম্বার) গত ১৯৯৩ সালে ৮ শতক জমি ক্রয় করেন। সেই জমি পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত হয়ে খারিজ খাজনা ও রেকর্ড মুলে মালিক হন আনোয়ারুল ও আফজালুল। যার সাবেক দাগ নং- ৩০১৯, হাল দাগ ২০১৯, মোট জমি ৩৪ শতকের মধ্যে ৬ শতক। সাবেক দাগ নং ৩০২১, হাল দাগ ২০১৮, মোট জমি ১০১ শতকের মধ্যে ২ শতক। দুই দাগে মোট জমির পরিমাণ ৮ শতক। সেই জমি ক্রয় করেন আমাদের পিতা মরহুম আব্দুল মজিদ (জমিদার মেম্বার)। যার দলিল নং ১৬/৯৩।
তিনি আরও বলেন, সে সময়ে ওই জমিগুলো অবব্যবহিত ছিল। আমার পিতার চাচাত ভাই ফারুক হোসেন। তার বসবাস করার জমি ছিল না। আমার পিতাকে অনুরোধ করে অস্থায়ী ভাবে বসবাসের জন্য একটু জায়গা চায়। সেই অনুযায়ী ফারুক হোসেনকে একটা টিনের ঝাপড়া করে থাকার সুযোগ করে দেন আমার পিতা। এদিকে সেই জমি ক্রয়ের পর আমার পিতা খারিজ-খাজনাসহ নামজারি করে নেন। আমাদের পিতার মৃত্যুর পর আমাদের জমির প্রয়োজন হওয়ায় তাদেরকে জমি ছেড়ে দিতে বললে তারা দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের সাথে নানান টালবাহানা শুরু করে দেন। এরই মধ্যে মারা যান ফারুক হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি আমাদের ক্রয় সুত্রে মালিক হওয়া জমিটির টিনের ঘরসহ সার্বিক সংস্কার করতে গেলে তারা বাঁধা প্রদান করে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে নাটক সাজিয়ে তারাই আবার আমদের উপর মামলা করে দেন। এ ঘটনায় গত ০৪ অক্টোবর বুড়িরহাট ও ডাক্তারপাড়া এলাকার সিনিয়র ব্যক্তিবর্গরা ও ২জন এ্যাডভোকেটের উপস্থিতিতে বুড়িরহাট বাজারের বুলুদের চাতালে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে উভয়ের কাগজপত্রাদি যাচাই করেন তারা। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয় মরহুম আব্দুল মজিদ (জমিদার মেম্বার) এর ওয়ারিশগণ সেখানে জমি পাবেন এবং প্রতিপক্ষ সে বিষয়ে স্বীকারোক্তিও দেন। সে সময়ে সমঝোতার ভিত্তিতে আবার সিদ্ধান্ত হয় পরের শনিবার ১২ই অক্টোবর উভয় পক্ষের বিজ্ঞ আমিনের উপস্থিতিতে জমি মাপ-যোগ করে ক্রয়কৃত ৮ শতক জমি ছেড়ে দেয়ার। কিন্তু ‘ গত শুক্রবার ১১ অক্টোবর রাতে মরহুম ফারুক হোসেনের পক্ষে ভুমিদস্যু ছারোয়ারুল সেই প্রথম বৈঠকে উপস্থিতিতে সিনিয়র ব্যক্তিবর্গের কাছে গিয়ে জানায়, তিনি জমি মাপ-যোগ করবেন না বা জমি ছেড়েও দিবেন না।
এসময় মরহুম আব্দুল মজিদ (জমিদার মেম্বার) এর অপর অংশিদার গোলাম আজাদ মানিক বলেন, ¯’অস্থায়ীভাবে বৈঠকে জমির সমস্যার সমাধান হতো, কিন্তু‘ ভুমিদস্যু ছারোয়ারুল এর জন্য হচ্ছে না। তিনি ঘটনাটিকে প্যাচিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন। ওয়াকার হাসান দীপ বলেন, তারা রাজনৈতিকভাবে ফায়দা হাসিলের জন্য একটি দলের নাম ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যা কোনভাবে কাম্য নয়। সম্প্রতি জমির উপরে থাকা টিনশেড ঘর মেরামতের জন্য গেলে তারা বিধবা এবং নিরীহ হিসেবে অপপ্রচার চালিয়ে অবৈধ দখলে থাকার ঘটনাটি রাজনীতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন।
মরহুম আব্দুল মজিদ (জমিদার মেম্বারের) অংশিদারগণ তাদের পিতার ক্রয়কৃত জমি উদ্ধারে যথাযথ কর্তৃপক্ষসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
আকাশ চন্দ্র পাপ্পু, রংপুর 


