তারাগঞ্জে বহুল আলোচিত মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোরসালিন (২৩)–কে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের শেরসমস্ত বালাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে আসামি মোরসেলিনের তথ্য অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা দম্পতির বাড়ির পেছনের পুকুরে মেশিন লাগিয়ে পানি তুলে খুনে ব্যবহৃত কুড়ালের ডাটা ও একটি দা উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার বেলা ১২টায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুরের পুলিশ সুপার মারুফত হোসেন জানান, ধার–দেনার চাপে দিশেহারা হয়ে মোরসেলিন প্রথমে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সুবর্ণা রায় পুস্প এবং পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ রায়কে একই কুড়াল দিয়ে হত্যা করে। “মূলত টাকার লোভেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ঘাতক,” বলেন পুলিশ সুপার।
তিনি আরও বলেন, রংপুরবাসীকে বলতে চাই—যেই অপরাধ করুক না কেন, তাকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আসতে হবে। প্রশাসন এ ব্যাপারে সর্বদা সজাগ।
নিহত মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায়ের বড় ছেলে জানান, ঘটনার পাঁচ–ছয় দিন আগে তাদের বাড়িতে টাইলসের কাজ করেছিলেন মোরসেলিন। বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে চুরির উদ্দেশ্যে তিনি বাবা–মাকে হত্যা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। দ্রুত বিচার ও ঘাতকের ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, আমি নিজে পুলিশ সদস্য। এ ক্লুলেস হত্যার দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার করায় আমরা পুলিশ বাহিনীর জন্য গর্বিত।
মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত আসামি গ্রেফতার করায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে ঘাতকের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি করেছেন।
শফিউল মন্ডল 


