রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১নং খোড়াগাছ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের খোড়াগাছ উত্তর পাড়া (কুঠিপাড়া) গ্রামে ১২ বছর বয়সী কিশোরী রীনা আক্তারকে ধর্ষণের প্রতিবাদে রোকনীগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসার উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার সকালে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় এলাকাবাসী এই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ফাঁসির দাবি জানান। মানববন্ধনে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা “ধর্ষকের ফাঁসি চাই”, “শিশু নির্যাতন বন্ধ করো” এবং “আমরা রীনার পাশে আছি”, আমার বোন মেডিকেলে, ধর্ষক কেন বাহিরে!’ এবং ‘আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই, ‘ধর্ষকের ফাঁসি চাই! এমন সব স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে অবস্থান নেন। তাদের কণ্ঠে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সুর ধ্বনিত হয়।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদের সমাজের এই কলঙ্কজনক ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত। একজন জেঠা কীভাবে একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নষ্ট করতে পারে, তা আমাদের কল্পনারও বাইরে। আমরা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের কাছে একটাই দাবি জানাচ্ছি—অপরাধী গোলজার হোসেনকে দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ ফাঁসির ব্যবস্থা করা হোক। যদি এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হয়, তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়বে।”
মানববন্ধনে উপস্থিত সাধারণ মানুষ বলেন, এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা রীনা ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত বিচারের দাবি জানান। সকলের সম্মিলিত দাবি ছিল, আর কোনো শিশু যেন এমন নির্মমতার শিকার না হয় এবং অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই পার না পায়।
এলাকাবাসীরা জানান, আমরা আজ এখানে দাঁড়িয়েছি ১২ বছরের নিষ্পাপ রীনার জন্য। আমাদের পাড়ার মেয়েটি আজ ধর্ষণের শিকার হয়ে হাসপাতালে। এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। আমাদের প্রশ্ন, যে লোক এমন জঘন্য কাজ করলো, সে কেন এখনো বাইরে থাকবে? কেন পুলিশ তাকে দ্রুত গ্রেফতার করছে না? আমরা চাই প্রশাসন এখনই ব্যবস্থা নিক।
আজ রীনার সাথে হয়েছে, কাল আমাদের অন্য কোনো সন্তানের সাথেও হতে পারে। আমরা আর কোনো মেয়েকে ধর্ষণের শিকার হতে দিতে পারি না। আমাদের দাবি একটাই—ধর্ষক গোলজারকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তার ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে। যদি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হয়, তবে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।”
ভুক্তভোগী কিশোরীর রীনা আক্তারের বাবা রবিউল ইসলাম কর্তৃক দাখিলকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩/০৯/২০২৫ তারিখে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে গোলজার রীনাকে ধর্ষণ করে।
এই ঘটনার পর রীনা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পরিবার প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেনি। পরে রীনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সন্দেহ হয়। মেডিকেল পরীক্ষার পর জানা যায় যে রীনা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপরই রীনার পরিবার জানতে পারে যে তার জেঠা গোলজারই এই জঘন্য অপরাধের জন্য দায়ী।
অনুসন্ধানী সংবাদ ডেস্ক নিউজ 


