পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে কোটি টাকা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে তারাগঞ্জ উপজেলার ও/এ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে তথ্য নিতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং অর্থের বিনিময়ে সংবাদ না করার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেছেন দুই সাংবাদিক।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বেলা আনুমানিক ১টার দিকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে। তথ্য সংগ্রহের জন্য দৈনিক কালবেলা পত্রিকার তারাগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি লাতিফুল সাফি ডায়মন্ড ও ভোরের দর্পণ পত্রিকার প্রতিনিধি আরিফ শেখ অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করেন। সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কুর্শা ইউনিয়নের সাবেক কাজী শাহা কাজি।
অভিযোগ অনুযায়ী, এস এম আব্দুস সালাম নৈশপ্রহরী, আয়া সহ চারটি পদে নিয়মানুগ বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে গোপনে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমি কি চুরি করছি? কেন আপনারা সংবাদ করবেন? কত টাকা দিতে হবে সংবাদ না করার জন্য?
সাংবাদিকদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ উত্তেজিত হয়ে বারবার স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মোবাইলে ফোন দেন এবং তাঁদের ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। পরে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলেন এবং সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেন।
নিরাপত্তার স্বার্থে সাংবাদিকরা অডিও ও ভিডিও রেকর্ড চালু করেন বলে জানিয়েছেন। দাবি করা হয়, রেকর্ডিং চলাকালেও অধ্যক্ষ অশালীন ও অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেন এবং সংবাদ বন্ধ করতে আর্থিক প্রস্তাব দেন।
সাংবাদিক আরিফ শেখ বলেন, আমরা দায়িত্বশীলভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া জরুরি।
লাতিফুল সাফি ডায়মন্ড বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। তদন্ত কমিটি হলে আমরা অডিও–ভিডিও প্রমাণ জমা দেব।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক মহল। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অধ্যক্ষ এস এম আব্দুস সালামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি “পরে কথা বলব” বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেন বলেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ আমরা জেনেছি। আমি ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি নই। দায়িত্বে আছেন একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) স্যার। অভিযোগকারীদের সভাপতির কাছে লিখিতভাবে আবেদন করতে বলা হয়েছে।
রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শরীফুল আলম বলেন, আয়া, নৈশপ্রহরীসহ চারটি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান আছে। এ বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। তথ্য গোপন করার কোনো কারণ নেই। অধ্যক্ষ কেন এমন আচরণ করেছেন, আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলব।
অনুসন্ধানী নিউজ 


